ইউনুছ শিকদার: কুড়িগ্রামে সাংবাদিক রিগ্যানকে গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে নোয়াখালীতে মানববন্ধন। টাস্কফোর্স অভিযানের নামে মধ্য রাতে ঘরের দরজা ভেঙ্গে মারধর করে ঢাকা ট্রিবিউন ও বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানকে তুলে নিয়ে গিয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এক বছরের জেল দেওয়া সহ বিভিন্ন সাংবাদিকদের উপর মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ ও কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের অপসারণের দাবীতে মানববন্ধন করেছে নোয়াখালীতে কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ।
গতকাল রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত নোয়াখালী প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচি পালিত হয়। পরে, মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে, বিক্ষোভ মিছিলটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে মিলিত হয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচী পালন করে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বখতিয়ার শিকদার, দৈনিক যুগান্তরের মনির চৌধুরী, ইনডিপেনডেন্ট টিভির আবু নাসের মঞ্জু, জামাল হোসেন বিষাদ, দৈনিক মানবজমিনের নাসির উদ্দিন বাদল।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভিনের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট রিন্টু বিকাশ চাকমার নেতৃত্বে কয়েকজন ম্যাজিস্ট্রট আনসার সদস্যদের নিয়ে আরিফুলের বাসায় গিয়ে দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে স্ত্রী-সন্তানের সামনে মারধর করে নিয়ে যায়। এরপর, আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা রাখার অভিযোগে তাকে এক বছরের কারাদন্ড দেওয়া হয়। একজন সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যাওয়া এবং তার প্রতি শারীরিক নির্যাতন দু:খজনক।
এটি সারাদেশের সাংবাদিকদের জন্য একটি অশনিসংকেত। এই ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত প্রশাসনের সেই কর্মকর্তদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানানো হয়। পাশাপাশি আরিফুল ইসলাম রিগ্যানের নি:শর্ত মুক্তি এবং সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহার করায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানানো হয়।
এদিকে, মানববন্ধনে দৈনিক মানবজমিন পত্রিকার প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, রিপোর্টার আল আমিন ও অন্য ৩০ জনের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অধীনে করা মামলা প্রত্যাহার এবং ফটো সাংবাদিক ও পক্ষকাল ম্যাগাজিনের সম্পাদক শফিকুল ইসলাম কাজল নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, তাকে খুঁজে বের করতে জরুরী পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবী জানানো হয়।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নিউজ ২৪ এর আকবর হোসেন সোহাগ, ৭১ টিভির মিজানুর রহমান, যমুনা টেলিভিশনের মোতাছিম বিল্লাহ সবুজ, চ্যানেল আইয়ের আলাউদ্দিন শিবলু, সময় টিভির সাইফুল্লাহ কামরুল,এসএ টিভির আবদুর রহিম বাবুল, চ্যানেল ২৪ এর সুমন ভৌমিক, ডিবিসির আসাদুজ্জামান চৌধুরী কাজল, দীপ্ত টেলিভিশনের মাওলা সুজন, দেশ টিভির মাহবুবুর রহমান, প্রথম আলোর মাহবুবুর রহমান, দ্য ডেইলি ষ্টারের আনোয়ারুল হায়দার, সচিত্র নোয়াখালীর সম্পাদক আমিরুল ইসলাম হারুন, মানিক ভূইয়া,এ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির, আকাশ মোহাম্মদ জসিম, ফয়জুল ইসলাম জাহান, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, ভোরের কাগজের মো. সোহেল বাদশা, এআর আজাদ সোহেল, আবদুল মোতালেব, নুরুর রহমান, ইকবাল হোসেন সুমন, মুজাহিদুল ইসলাম সোহেল,চ্যানেল এস এর ইমাম উদ্দিন সুমন,গাজী রুবেল, আরেফিন শাকিল, দ্য বাংলাদেশ অবজারভারের মুলতানুর রহমান মান্না ও বাংলাদেশ প্রেসের মাহবুবুর রহমান বাবু প্রমুখ।


0 Comments